কসবা পরিচিতি

কসবা নামের উৎপত্তিঃ

কসবা ফরাসী শব্দ। কসবা শব্দটির অর্থ উপশহর বা জনপদ। ভারতবর্ষে মুসলমান শাসনামলে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে আলাউদ্দিন হোসেন শাহ রেল স্টেশনের পশ্চিম পাশে কৈলাঘর নামে একটি দূর্গ নির্মাণ করেছিলেন। ঐ দূর্গের আশে-পাশে প্রথম দিকে জনবসতি এবং পরবর্তীতে আস্তে আস্তে ছোট শহর কসবা গড়ে ওঠে। সেজন্য কৈলাঘড় থেকে কসবার উৎপত্তি। রেল স্টেশনের পশ্চিম পাশে কৈলাঘড় দূর্গের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।

ভৌগোলিক অবস্থানঃ

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিশালগড় থানার পশ্চিমে সীমান্তবর্তী কসবা উপজেলা। কসবা উপজেলার উত্তরে আখাউড়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা, দক্ষিণে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা, পশ্চিমে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলা এবং পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য।
প্রায় ২০৯.৭৬ বর্গকিলোমিটার (৮০.৯৯ বর্গমাইল) স্থান নিয়ে এ উপজেলা গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় সকল ভৌগোলিক উপদান ও বৈশিষ্ট্য এখানে পরিলক্ষিত হয়। বিস্তীর্ণ সমভূমি, নিচু ভূমি, জলাশয়, উচ্চ ও অনুচ্চ পাহাড়, লাল মাটির পাহাড়, নদী-নালা, খাল বিল পরিবেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। সমগ্র কসবা ছিল নূরনগর পরগনার অন্তর্ভুক্ত। তিতাস, সালদা, বিজনা, সিনাই, সাঙ্গুর, বুড়ি ও কালিয়ারা নদী একে বেকে কসবার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে গেছে। এ উপজেলার পূর্বপ্রান্তে রয়েছে লাল মাটির পাহাড়ি টিলা ভূমি। ছোট ছোট টিলার সবুজ বনানী আর পশ্চিম প্রান্তে সমতল ভূমির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক ঐতিহ্যবাহী স্থান কসবা উপজেলা যা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত। কসবা রেল স্টেশনের পূর্ব পার্শ্বে বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তে রয়েছে ১টি সীমান্ত হাট।

মুক্তিযুদ্ধে কসবাঃ

মুক্তিযুদ্ধের সময় কসবা উপজেলা ২নং সেক্টরের বৃহত্তম রণাঙ্গন ছিল। ১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর লতোয়ামুড়া ও চন্দ্রপুরে পাকবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং কোল্লাপাথরে অপর এক লড়াইয়ে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তাছাড়া এসময় উপজেলার আকছিনা, আড়াইবাড়ী, হরিয়াবহ, ক্ষীরণাল, চারগাছ ও বায়েক অঞ্চলে পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াই হয়। এ উপজেলায় অবস্থিত কোল্লাপাথর শহীদ সমাধিস্থল। এখানে ৫০ জন শহীদ মুক্তি যোদ্ধা চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। এর মধ্যে ৪৭ জনের পরিচয় মিলেছে ও তিনজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
জনসংখ্যাঃ

২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী কসবা উপজেলার মোট জনসংখ্য ৩,১৯,২২১ জন; পুরুষ ১,৫১,৮৫২ জন ও মহিলা ১,৬৭,৩৬৯ জন। মুসলিম ২৫৭৩৯২ জন, হিন্দু ১৩৭৯৩ জন, বৌদ্ধ ১৭ জন ও অন্যান্য ২৯ জন। কসবা থানা গঠিত হয় ১৯০৮ সালে এবং ১৯৮৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়।

শিক্ষাঃ

এ উপজেলার শিক্ষার হার ৫০.৭%। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৬০টি, কিন্টার গার্টেন ৫৪টি, উচ্চ বিদ্যালয় ৩৯টি, নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২টি, মাদ্রাসা ২৩টি কলেজ ৮টি, মহিলা কলেজ ৩টি, টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট ১টি।

স্বাস্থ্যসেবাঃ

স্বাস্থ্যসেবা দানের জন্য রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১টি, জন্ম নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ৫টি, কমিউনিটি ক্লিনিক ২টি, স্যাটেলাইট ক্লিনিক ৬৪টি, পশু চিকিৎসা কেন্দ্র ১টি ও কৃত্তিম প্রজননকেন্দ্র ১টি।

কৃষিঃ

এখানকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ কৃষক। প্রধান ফসল হল ধান, গম ও বিভিন্ন ধরণের সবজি। প্রধান ফল কলা, কাঁঠাল, আম ও জাম।

কৃতী ব্যক্তিত্বঃ

এ উপজেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে রয়েছেন- সিরাজুল হক বাচ্চু, আনিসুল হক (প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও আইনমন্ত্রী), সৈয়দ আব্দুল হাদী (বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী), খন্দকার আশোক শাহা (সুফী সাধক ও ধর্ম প্রচারক), আল্লামা শায়খুল বাঙ্গাল (রাহ্) (বিশিষ্ট আলেম ও সুফি সাধক), ডঃ এম. এ. রহমান (চিকিৎসক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সুফি সাধক) প্রমুখ।

দর্শনীয় স্থানঃ